প্রকাশিত: Thu, Apr 20, 2023 8:17 AM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 11:01 AM

যেহেতু বিদ্যানন্দকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের উচিত তাদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখ

আহমেদ রাজু : বিদ্যানন্দ নামে একটা ফাউন্ডেশন আছে। গত কয়েক বছর ধরে তারা মানুষকে ভাত খাওয়ায়। একবছরে তারা ১১ কোটি টাকা দান-খয়রাত তুলেছে। এর মধ্যে ৭ কোটি টাকা তারা খরচ করেছে। এই টাকা দিয়ে তারা দরিদ্রদের ভাত খাওয়াইছে। এটা অবশ্যই ভালো কাজ। কিন্তু এই লোকগুলোকে না খাওয়াইলে কি তারা মরে যেত? তারা যখন খাওয়াতো না, তখন কি কেউ না খেয়ে মরে গিয়েছিলো? একজনও মরেনি। এই যে তারা গত তিনবছর ধরে মানুষকে বিনে পয়সায় খাওয়াচ্ছে, ওই লোকগুলোর দীর্ঘ মেয়াদে কি লাভ হচ্ছে? এই লোকগুলো কিন্তু দরিদ্রই থাকছে। তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। যারা ভিক্ষা করে খায়, তারা ভিক্ষুকই থাকছে। তার মানে বিদ্যানন্দ মানুষকে ভিক্ষুকই বানিয়ে রাখতে চায়। কারণ সবাই ভিক্ষুক থাকলে অনুদান অব্যাহত থাকে। শোনা যায়, বিদ্যানন্দ ৭০০ দরিদ্র শিশুকে লেখাপড়া করায়। এটা ভালো ও প্রশংসনীয় কাজ। কিন্তু মানুষ খাওয়ানো ভালো কাজ হলেও সুবিধাভোগীদের দীর্ঘ মেয়াদে কোনো লাভ নেই। 

এই টাকা দিয়ে তারা মানুষের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে পারতো। তাদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মীর হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে পারতো। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে পারতো। কিন্তু তারা তা করেনি। একজন দরিদ্রকে ২০ হাজার করে টাকা দিলে ১১ কোটি টাকায় ৫,৫০০ জনকে স্বাবলম্বী করা যায়। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই টাকায় কাউকে স্বাবলম্বী করা যায়? অবশ্যই যায়। ফুটপাতে যারা সবজি বেচে, ফেরি করে মাছ ও চা বেচে, যারা রিকশা ভ্যান চালায়, তাদের পুঁজি কত? এ ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায় ২০ হাজার টাকা লাগে না। কিন্তু বিদ্যানন্দ সেদিকে যায়নি। এই সংগঠনটির কাজে আমি খুব মুগ্ধ ছিলাম। ইদানীং এদের কর্মকাণ্ড শুনে খুব হতাশ হয়েছি। যেহেতু, তাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের উচিত তাদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা। লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক